নিজস্ব প্রতিবেদক।। সারাবিশ্বে চলছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপ। আক্রান্ত পুরো বিশ্ব। লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছে সকল ব্যবসা ও অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও আক্রমন ঘটেছে মহামারী করোনার। আক্রান্তের সংখ্যা গানিতিক হারে প্রতিদিনই বেড়েই চলছে। ফলে অসহায় হয়ে পড়ে নিম্ন আয় ও শ্রমজীবী লোকজন। খাদ্যের অভাবে দিন যাপন করছে অনেক মানুষ। আর এসব লোকের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা এলাকার যেকোন লোকের আর্থিক ও খাদ্যের সহায়তা এগিয়ে এসেছেন পুলিশ সুপার। যেকোন সময় কল করলেই পাওয়া যায় তাকে। হাজির হন ত্রান ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তায়ও মিলে খাদ্য সামগ্রী।
সৌদি প্রবাসী আমিনুল রহমান জানান,”আমার গ্রামের বাড়িতে লকডাউন থাকার জন্য বের হতে পারছিলেন না লোকজন। কোন ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছিলো না কারো সাথে। বিষয়টি আমি জানতে পেরে পুলিশ সুপারকে মুঠো ফোনের মাধ্যমে জানালে ত্রান নিয়ে বাড়িতে হাজির হন তিনি। মানবতার সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন তিনি। দেশের বাহিরে থেকেও পুলিশের এমন সৌহার্দ্যপূর্ন কর্মকান্ডের জন্যই রেমিটেন্স যোদ্ধারা নিশ্চিতে বিদেশে অবস্থান করতে পারছি”।
আরেক যুবক তায়েবুর রহমান জানান, “পুলিশ সুপার জানিয়েছেন যারা সম্মানহানির ভয়ে ত্রানের জন্য যারা চাইতে পারেন না তারা মুঠোফোনে জানালেই বাড়িতে গোপনে পৌছে যাবে ত্রান। পুলিশের এ ঘোষনার পর চুয়াডাঙ্গার এক মসজিদের এসপি স্যারের নির্দেশে তার বাড়িতে খাবার পৌছে দেওয়া হয়েছে”।
দামুড়হুদা এলাকার এক বৃদ্ধা জানান, “করোনার দিনগুলোতে খাদ্য সংকটে না খেয়ে জীবন পার করছিলাম। ওসি স্যার একদিন রাইতে আইসা খাবার দিয়া গেছে। আল্লাহ’ তারে ভালো রাখুক”।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদ হাসান আমাদেরবাংলাদেশ.কমকে জানান,করোনা ভাইরাসের কারনে কাজের অভাবে অসহায় হয়ে পড়া লোকজনকে যেকোন ধরনের সাহায্য করা হবে। মূলত যারা দিনমজুর, নিম্ম আয়ের কিংবা স্বামী বা ছেলে সন্তান নেই তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে যারা সম্মানহানির ভয়ে কাউকে বলতে পারছেনা তারা মুঠোফোনে জানালেই গোপনে তাদের বাড়িতে পৌছে দেওয়া হবে ত্রান সামগ্রী।
এসময় তিনি আরোও জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। করোনা বিরুদ্ধে সবাই এক হলেই কেবল এটি দূর করা সম্ভব বলেও পুলিশ সুপার জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছ ৯১জন। আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে দাড়িয়েছে ২৪৫৬জন। অন্যদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫জন।